সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড : তথ্যের ঘাটতি আছে, আমরা খতিয়ে দেখ‌ছি
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড : তথ্যের ঘাটতি আছে, আমরা খতিয়ে দেখ‌ছি

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড : তথ্যের ঘাটতি আছে, আমরা খতিয়ে দেখ‌ছি
ছবি সংগৃহীত।

সৌদি আরবে যে প্রক্রিয়ায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তা দুঃখজনক উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন ক‌বির বলেছেন, এটা অবশ্যই তথ্যের ঘাট‌তি এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো এক জায়গাৃয় ঘাট‌তি রয়েছে। এটা খতিয়ে দেখার জন্য আমরা দুই পক্ষ কথাবার্তা বলছি।

দুই দেশ সফর শেষে দেশে ফিরে সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবা‌দিকদের মুখোমু‌খি হয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

হুমায়ুন ক‌বির বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষ করে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটা ভালো এবং গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ ও সৌ‌দি আরব জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। যে ঘটনা ঘটেছে, এখানে তথ্য বি‌নিময়ের ঘাট‌তি রয়েছে। ঘাট‌তিটা কীসের জন্য হয়েছে তা খতিয়ে দেখার জন্য আমরা একটা ব্যাখ্যা চেয়ে‌ছি। এখানে অবশ্যই তথ্যের ও প্রক্রিয়ায় কোনো এক জায়গায় ঘাট‌তি রয়েছে। আমরা এটা খতিয়ে দেখার জন্য দুই পক্ষ কথাবার্তা বলছি।

তি‌নি বলেন, এটা অবশ্যই দুঃখজনক, অ্যালিগেশন এনে বা ক্রাইম অফেন্স এনে এক্সিকিউশনটা হলো, সেটা আমাদের জন্য হতাশার। কারণ, আল্লাহর ঘরের পবিত্রতা এবং মক্কা যাওয়ার উদ্দেশ্য মানুষের পবিত্রই হয়। যেটা আমরা শুনলাম এটা যদি হয়ে থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলা‌দেশির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবা‌বে প্রতিমন্ত্রী বলেন, না, রায় কার্যকর হয়ে গেছে। হয়ে গেলে এটার আর সুযোগ থাকে না। এখন আমরা দেখব ঘাটতিটা কোথায়।

দুই বাংলা‌দে‌শির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার প্রশ্নে হুমায়ুন ক‌বির বলেন, সেটা মি‌ডিয়ার খবরে দেখেছেন। দেখেন, এটা প‌রিষ্কার। আমরা যদি সৌদি আরবের কোনো ক্রিমিনালকে ধ‌রি এখানে অবশ্যই তাদের জানাব। কনস্যুলার সার্ভিসেস সুযোগ পে‌তে পা‌রে সে।

তি‌নি বলেন, পবিত্র জায়গা, আল্লাহর বাড়ি মানুষ পবিত্র নিয়তে যায়। ওখানে গিয়ে ওই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া তো ঠিক না, কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। সুতরাং এখানে পরিষ্কার যদি ক্রাইম হয়ে থাকে এটার একটা আইন রয়েছে। তাদের লোকাল আইন রযেছে, যে যায় সৌদি আরবে সে তা জানে।

ভারতের সঙ্গে কনস্যুলার ডায়ালগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তি‌নি বলেন, ডায়ালগ হবে, ওখানে আলাপ আলোচনা হবে সব বিষয় নিয়ে; যেগুলো নিয়ে দুই পক্ষের আগ্রহ থাকবে।




চট্টগ্রামে জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামে জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে তিনি পূজামণ্ডপে পৌঁছান।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে যান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান মন্দির কর্তৃপক্ষ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিরা।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে পূজামণ্ডপ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এর মধ্যে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন– অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন– স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ভূমি ও পার্বত্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান।

এ সময় চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।




বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বেড়েছে, বলছে যুক্তরাজ্যের সিপিআইটি

বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বেড়েছে, বলছে যুক্তরাজ্যের সিপিআইটি
ছবি সংগৃহীত।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাবলি ও ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উন্নতি হয়েছে ও সহিংসতা কমেছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিম (সিপিআইটি)।

‘রিপোর্ট অব আ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’— শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস।  

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রতিবেদনটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাবলি ও ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির একটি চিত্র তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা হ্রাস, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসর বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রচেষ্টা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলোর চলমান পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

সিপিআইটি ২০২৬ সালের ৭ জুন থেকে ১৫ জুন বাংলাদেশে একটি তথ্য-অনুসন্ধান মিশন পরিচালনা করে। এই মিশনে সরকারি কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিক ও গবেষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও উন্নতি ঘটেছে। বিশেষ করে, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে এ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল এবং আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এতে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে।

প্রতিবেদনে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা হ্রাসের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বর্তমানে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। তারা নিজেদের মতামত প্রকাশ ও আলোচনায় অংশগ্রহণেরও বেশি সুযোগ পাচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্যে আগের সময়ের তুলনায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তারা তথ্য-অনুসন্ধান মিশনকে জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বড় বড় ধর্মীয় উৎসবের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তারা তুলে ধরেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যেসব রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা এখনো ঘটছে, সেগুলো সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। এসব ঘটনার সঙ্গে প্রায়ই স্থানীয় প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পত্তি ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো জড়িত থাকে।

প্রতিবেদনে বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তিকে মুক্তি ও এ ধরনের অধিকাংশ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা হিসেবে বিবেচিত ২১ হাজারেরও বেশি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে পুরোনো মামলাগুলো পর্যালোচনার কাজ এখনো চলমান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।




পে-স্কেল: বেতন-ভাতা নির্ধারণে প্রস্তুতি কতদূর

পে-স্কেল: বেতন-ভাতা নির্ধারণে প্রস্তুতি কতদূর
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের  চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে সরকার। নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ কার্যক্রম শেষ করার নির্ধারিত সময়সীমা ছিল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। গত ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন, পুরোনো বেতনের সঙ্গে পার্থক্য এবং বকেয়া পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) ব্যবস্থায় বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা ও জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন।

নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই এ কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে নতুন স্কেল কার্যকর ধরা হলেও বর্ধিত বেতন দেওয়া হচ্ছে ধাপে ধাপে।

অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন মাসের বকেয়া অর্থও পাওয়ার কথা সরকারি চাকরিজীবীদের। তবে সবাই সমান অঙ্কের বকেয়া পাবেন না। কর্মচারীর গ্রেড, আগের মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত বেতন ও কার্যকর হওয়ার সময়ের ভিত্তিতে পাওনা নির্ধারিত হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় নতুন বেতনকাঠামো না আসায় মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বেতনবৈষম্য নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

পরবর্তী সময়ে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সচিব পর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদন বিবেচনায় নেয় সরকার। গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ১৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা আদেশটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হয়েছে।

নতুন পে-স্কেলে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১২ থেকে ২০তম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে আগের আট হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতন বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার প্রায় ১৪২ শতাংশ।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। দ্বিতীয় গ্রেডে এক লাখ ৩২ হাজার, তৃতীয় গ্রেডে এক লাখ ১৩ হাজার, চতুর্থ গ্রেডে এক লাখ, পঞ্চম গ্রেডে ৮৬ হাজার এবং ষষ্ঠ গ্রেডে ৭১ হাজার টাকা থেকে বেতনক্রম শুরু হয়েছে। নবম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ৪৪ হাজার, দশম গ্রেডে ৩২ হাজার, ১১তম গ্রেডে ২৫ হাজার এবং ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বেতন বৃদ্ধির সম্পূর্ণ অর্থ একসঙ্গে দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও বাজেট ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তিন ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রথম ধাপে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেড এবং তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা পুরোনো ও নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ পাবেন। অন্যদিকে দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন ওই পার্থক্যের ৫০ শতাংশ।

দ্বিতীয় ধাপে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেড এবং তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা বেতন বৃদ্ধির পার্থক্যের ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ পাবেন। তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ নতুন মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে।

তিন মাসের বকেয়া যেভাবে পাবেন

নতুন বেতনকাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বর্ধিত অংশের অর্থ বকেয়া হিসেবে পাওয়ার কথা সরকারি চাকরিজীবীদের। বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম শেষে অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে এ অর্থ সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

বেতন নির্ধারণে দিতে হচ্ছে যেসব তথ্য

অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য আইবাস++ ব্যবস্থার পে ফিক্সেশন মডিউলে চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্ম তারিখ, বর্তমান পদবি, বেতন গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতনের তথ্য।

একইসঙ্গে আগের বেতন নির্ধারণের রেকর্ড, পদোন্নতি, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির তথ্যও যাচাই করতে হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দাফতরিক আদেশ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারিত হলে নতুন মূল বেতন ও বকেয়া পাওনার হিসাবে অসংগতি দেখা দিতে পারে।

পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তার কার্যালয়, বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং জেলা ও উপজেলা হিসাব কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকর্মচারীদের অনলাইন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেছে অর্থ বিভাগ।

ভাতা নিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন

এদিকে বেতন নির্ধারণের সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ভাতা সংক্রান্ত নতুন একটি প্রজ্ঞাপন ১৯ অক্টোবর (সোমবার) জারি করেছে অর্থ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর আওতাবহির্ভূত মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক যেসব প্রচলিত ভাতা পান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেগুলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করতে হবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম। ফলে নতুন মূল বেতন নির্ধারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের শতাংশভিত্তিক ভাতা একই হারে বেড়ে যাচ্ছে না। মূল বেতনের বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের সময়সূচির মধ্যে পার্থক্য থাকছে।

নতুন পে-স্কেলের মূল আদেশ অনুযায়ী, সাধারণভাবে নতুন হারে ভাতা কার্যকরের নির্ধারিত সময় ১ জানুয়ারি ২০২৮। এর আগপর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আদেশ ও বিধান অনুযায়ী প্রচলিত ভাতার হিসাব চলবে।

সরকারের ব্যয়

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর আওতায় সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ ২৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন কাঠামো সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয়ের প্রাক্কলন প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধির অর্থ পরিশোধের জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের তথ্য জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

নতুন বেতনকাঠামোয় পেনশনভোগীদের জন্যও সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত রয়েছে। তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের বেশি হারে সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে সরকার। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে এমন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ভাতা এবং ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কতজনের পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হয়েছে, কতজনের তথ্য যাচাই বাকি রয়েছে এবং অসম্পন্ন আবেদনগুলোর জন্য সময় বাড়ানো হবে কি না এসব বিষয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পর্যন্ত অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে ইতোমধ্যে এগুলোর বেশিরভাগ কার্যক্রমই শেষ করা হয়েছে বলে  জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা সিরাজ উদ দৌলা খান। তিনি জানান, জুডিশিয়াল বিভাগের বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার বিষয়ে আগামী সপ্তাহে বৈঠক রয়েছে।

বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সাবেক সভাপতি বেলাল হোসেন  বলেন, নতুন পে-স্কেল ঘোষণাকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা আশা করছেন, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে তারা নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন ভাতা পাবেন।